পেয়ারার অবিশ্বাস্য উপকারিতা Leave a comment

বর্ষাকালীন ফলগুলোর মধ্যে পেয়ারা বেশ জনপ্রিয়। দেশীয় ফলগুলোর মধ্যে পেয়ারা অন্যতম। লবণ-মরিচ বা কাশুন্ধি দিয়ে পেয়ারা মাখিয়ে খেতে পছন্দ করে না এমন মানুষ খুব একটা পাওয়া যাবে না। কিন্তু পেয়ারা কেবলমাত্র খেতেই সুস্বাদু নয় বরং পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি। দামে কম হওয়ায় আমরা অনেকেই এই ফলটিকে গুরুত্বের সাথে দেখি না। কিন্তু পেয়ারার উপকারীতা যদি আমরা জানতাম তবে এটিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখার চেষ্টা করতাম। তাই আজকের ব্লগটি পেয়ারার উপকারিতা নিয়ে।

পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-সি। আর ভিটামিন-সি আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ভিটামিন সি আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়। এর ফলে সর্দি কাশির মত ছোট ব্যাধি গুলো আমাদের শরীরকে কাবু করতে পারে না। এতে শরীর সুস্থ থাকে, এছাড়া যেকোন ইনফেকশন থেকেও পেয়ারা শরীরকে প্রতিরোধ করে। 

পেয়ারাতে থাকা ভিটামিন-সি পরবর্তীতে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। আর এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমায়। পেয়ারা প্রোসটেট ক্যান্সার কিংবা ব্লেষ্ট ক্যান্সারের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। 

পেয়ারাতে রয়েছে ফািইবার আর এই ফাইবার রক্তে শর্করার পরিমান নিয়ন্ত্রন করে এর ফলে ডায়বেটিস হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। আর যাদের ডায়বেটিস হয়েই গিয়েছে তারা খাবার নিয়ে অনেক সময় দুশ্চিন্তার থাকেন। যেহেতু পেয়ারা রক্তের শর্করার পরিমান নিয়ন্ত্রন করে তাই ডায়বেটিস রোগীরা খাদ্য তালিকায়ে যোগ করতে পারেন পেয়ারা।

পেয়ারার আরও একটি উপকারী দিক হচ্ছে পেয়ারা শরীরে সোডিয়াম ও পটাসিরামে ভারসাম্য বৃদ্ধি করে এর ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা তাদের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন বর্ষাকালীন এই ফলটি।

পেয়ারা এইটডিএল নামক কোলেষ্টোরলের মাত্রা বাড়ায় যা হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই হার্ট ভালো রাখার ক্ষেত্রেও পেয়ারা বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

কোষ্ঠ-কাঠিন্য নাম শুনলেই আমরা আতঙ্কিত হয়ে যাই। এই রোগ আমাদের বেশ যন্ত্রণা দিয়ে থাকে। পেয়ারা যেহেতু একটি ফাইবার জাতীয় ফল তাই কোষ্ঠ্য-কাঠিন্য দূর করতে এটি ভূমিকা পালন করে। 

এছাড়াও পেয়ারা দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পেয়ারাতে রয়েছে ভিটামিন-এ। আর আমরা জানি ভিটামিন-এ চোখের জন্য উপকারী। তাই চোখের যত্ন বা দৃষ্টিশক্তি উন্নতিতে খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন। বর্ষাকালীন এই ফলটি। 

ফলিক এসিড গর্ভবতী মায়েদের জন্য খুবই প্রয়োজন। এটি গর্ভের বাচ্চার নার্ভাস সিষ্টেমকে উন্নত করে। আর এই ফলিক এসিড প্রচুর পরিমান বিদ্যমান পেয়ারাতে।

পেয়ারার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী দেশীয় এই ফলটি দামে যেমন খুব সস্তা তেমনি খুব সহজলভ্য। তাই চাইলেই আমরা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারি এই ফলটি।

লিখেছেন :-
Musarrat Rahman Achal
Head Of Marketing
Nandonik Online Shopping
Spread the love
  •  
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *